জাতীয় সংসদ থেকে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়েছেন গণপূর্তের প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি:

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক, দীর্ঘদিন একই বিভাগে কাজ করা এবং তাকে নিয়ে ভারত গমনই নয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে হরিলুট করে নিয়েছেন প্রায় দুইশতকোটি টাকা। মূলত গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল ৩ এর গণপূর্ত ই/এম বিভাগ ৭-এ (জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা) কর্মরত থাকা অবস্থায় নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী অবৈধভাবে এতো বিপুল টাকা কামানোর মিস্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। প্রায় ৭ বছর ধরে জাতীয় সংসদ ভবন গণপূর্ত ই/এম বিভাগ ৭-এ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিলেন তিনি। আবির্ভূত হয়েছিলেন জাতীয় সংসদের টাকাখেকো ইঞ্জিন হিসেবে। এখনো বহাল তবিয়তে আছেন সমীরণ মিস্ত্রী। গত ১ সেপ্টেম্বর গণপূর্তের ইএম বিভাগ-৭ থেকে সমীরণ মিস্ত্রীকে পিএন্ডডি বিভাগ-১ এ বদলি করা হয়। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীকে বদলি করা হয় সেখানে।

৭ বছর ধরে জাতীয় সংসদের টাকাখেকো ইঞ্জিন হিসেবে পরিচিত ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে-নির্বাহী সমীরণ মিস্ত্রী আমব্রেলা প্রজেক্টের আওতায় জাতীয় সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ টি দরপত্রের মাধ্যমে অঙ্গভিত্তিক প্রায় শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কার্যাদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তা ছিলেন সমীরণ মিস্ত্রী নিজেই। আর তাই তিনি নিজস্ব বলয়ের ঠিকাদারদের মাধ্যমে কথিত এ কাজ সম্পাদন করেছেন বলে অভিযোগ আছে। কোন ঠিকাদারই নিজে কোন কাজ করেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন-সমীরণ মিস্ত্রী ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ টাকা নিজে নিয়ে বিল প্রদান করেছে। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধারীকে জিজ্ঞাসাবাদে যার সত্যতা পাওয়া গেছে।

আমব্রেলা প্রজেক্টের আওতায় জাতীয় সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ টি দরপত্রের মাধ্যমে অঙ্গভিত্তিক প্রায় শত কোটি টাকা আত্মসাৎ

সূত্রে প্রকাশ, এপিপি আওতায় গণপূর্ত ই/এম ৭ এর বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকার। এবং অপারেশন প্ল্যান (ওপি) ১৩৮ এবং স্বাস্থ্য মেরামত খাতে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। উক্ত বরাদ্দকৃত টাকার সিংহভাগই সমীরণ মিস্ত্রির নেতৃত্বে লোপাট হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, আমব্রেলা প্রজেক্ট এবং ওপি প্রকল্পের মাধ্যমে মেরামত ও সংস্কার কাজ সম্পাদন করা হলেও এপিপি এর মাধ্যমে ছোটখাটো যেসব দরপত্র আহবান করা হয় তার পুরোটাই আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিশেষভাবে লুটপাট করা হয়েছে- বঙ্গবন্ধু জন্ম শতবার্ষিকীর নামে। বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ কাজ না করেই সৈয়দ ইলেকট্রিক এন্ড কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

ওপি প্রকল্পের মাধ্যমে মেরামত ও সংস্কার কাজ সম্পাদন করা হলেও এপিপি এর মাধ্যমে ছোটখাটো যেসব দরপত্র আহবান করা হয় পুরোটাই আত্মসাৎ

তাছাড়া ২৩-২৪ অর্থবছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটুএম ইয়োলো, রকেট- এদের স্বত্বাধিকারী এ টু এমের মামুন, ইয়োলোর রাজিব, বরিশালের রকেট, বি হোসেনের বেলায়েত এদের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা কতিপয় এডজাস্টের মাধ্যমে উপবিভাগ ১৪ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসী দিশার মাধ্যমে হাতিয়ে নেন সমীরণ মিস্ত্রি। এভাবে ছয় বছরে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। যার অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচার করেছেন সমীরণ মিস্ত্রি। তার নিজ জেলা সাতক্ষীরায় এক ডজনের বেশি মাছের ঘের আছে।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসী দিশার মাধ্যমে হাতিয়ে নেন সমীরণ মিস্ত্রি। এভাবে ছয় বছরে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে-২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত ড্রাই টাইপ ট্রান্সফর্মার। যেটির মেয়াদকাল ছিল ১০০ বছর। তা পরিবর্তন করা হয় এডেক্স কর্পোরেশনের মাধ্যমে। যার দরপত্র মূল্য ছিল প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। টেকসই জিনিস থাকার পরেও, ২০৮২ সাল পর্যন্ত মেয়াদ থাকার পরও নতুন ড্রাই টাইপ ট্রান্সফরমার বসানো হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনে। ঠিকাদারের পুরো বিল পরিশোধ করা হলেও অদ্যাবধি কাজের কাজ কোন কিছুই হয়নি।

“২০৮২ সাল পর্যন্ত মেয়াদ থাকার পরও নতুন ড্রাইটাইপ ট্রান্সফরমার – ঠিকাদারের পুরো বিল পরিশোধ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি’

সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেলের সংস্কার বা রেনোভেশন এর নামে কোটি কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হলেও সরজমিনে দেখা যায় এমপিদের অফিস কক্ষে দৃশ্যমান বৈদ্যুতিক সংস্কারে কোন কাজই হয়নি।

সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেলের সংস্কার বা রেনোভেশন এর নামে কোটি কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হলেও সরজমিনে দেখা যায় এমপিদের অফিস কক্ষে দৃশ্যমান বৈদ্যুতিক সংস্কারে কোন কাজই হয়নি। সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেলের সংস্কার বা রেনোভেশন এর নামে কোটি কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হলেও সরজমিনে দেখা যায় এমপিদের অফিস কক্ষে দৃশ্যমান বৈদ্যুতিক সংস্কারে কোন কাজই হয়নি। সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেলের সংস্কার বা রেনোভেশন এর নামে কোটি কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হলেও সরজমিনে দেখা যায় এমপিদের অফিস কক্ষে দৃশ্যমান বৈদ্যুতিক সংস্কারে কোন কাজই হয়নি। সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেলের সংস্কার বা রেনোভেশন এর নামে কোটি কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হলেও সরজমিনে দেখা যায় এমপিদের অফিস কক্ষে দৃশ্যমান বৈদ্যুতিক সংস্কারে কোন কাজই হয়নি।

সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেলের সংস্কার বা রেনোভেশন এর নামে কোটি কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হলেও সরজমিনে দেখা যায় এমপিদের অফিস কক্ষে দৃশ্যমান বৈদ্যুতিক সংস্কারে কোন কাজই হয়নি।

উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুলের ভাই রাসেলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও প্রায় সাত-আট কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন সমীরণ মিস্ত্রী। সরকারের একজন মন্ত্রীসহ জিলানী নামের একজন কর্মকর্তাকেও নির্বাচনের সময় মোটা অংকের টাকা দিয়েছেন এই সমীরণ মিস্ত্রি। এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে সমীরণ মিস্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন।

উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুলের ভাই রাসেলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও প্রায় সাত-আট কোটি টাকার দুর্নীতি

আগমীকাল পড়ুন (স্পীকার, চীফ হুইপ ও মন্ত্রীদের নির্বাচনে কোটি টাকা দেন সমীরণ মিস্ত্রী।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here